Sunday, February 13, 2011

রাশি বুঝে সঙ্গী

মেষ : মেষ জাতক/জাতিকার সঙ্গে আরেক মেষ জাতক/জাতিকার ভালোবাসার সম্পর্ক সহজেই গড়ে ওঠে না। ভালোবাসার জন্য এদের সিংহ ও ধনু জাতককে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মেষ ও সিংহের সমন্বয়ে রসায়ন হয় শুভ। শেষ পর্যন্ত তা গড়াতে পারে বিবাহবন্ধনে।

বৃষ : এ জাতক/জাতিকার জন্য ভালোবাসার মানুষ পাওয়া যাবে কন্যা রাশির জাতক/জাতিকা থেকে। অনেক ক্ষেত্রেই বৃষ নারীর ভালোবাসা সুপ্রসন্ন হতে পারে নিজের রাশির কাউকে বিয়ে করার পর। বৃষ ও কন্যার সমন্বয়ে যে ভালোবাসা প্রস্ফুটিত হয় সেটি অনেকদূর পর্যন্ত যেতে পারে। পাড়ি দিতে পারে অনেক বাধা-বিঘ্ন।

মিথুন : এ জাতক/জাতিকার সঙ্গে তুলা ও সিংহ রাশির কারও সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হতে পারে। এ জাতকের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারে মেষ জাতিকা। আবার অনেক সময় এ জাতিকার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারে কর্কট জাতকের। মিথুন ও সিংহের সমন্বয়ে ভালোবাসার ঘর হতে পারে দৃঢ়। এদের প্রধান শত্রু হতে পারে কুম্ভ জাতক/জাতিকা।

কর্কট : এ জাতকের ভালো বন্ধু হতে পারে কন্যা রাশির জাতক। জীবনসঙ্গী হিসেবে কন্যা রাশিকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। কন্যা রাশির জাতিকা আপনার জীবনকে অনেকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কন্যা রাশির জাতিকা পাওয়ার জন্য অনেক বাধা-বিঘ্ন পেরুতে হবে। বিশেষ করে সিংহ জাতক/জাতিকা আপনার ভালোবাসার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া কুম্ভ রাশির সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে।

সিংহ : মেষ রাশির যে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়া যেতে পারে। সিংহ জাতিকার সবচেয়ে ভালো বন্ধু পাওয়া যাবে মিথুন ও ধনু রাশিতে। বিশেষ করে কন্যা রাশির জাতক/জাতিকাদের এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কন্যা রাশির সঙ্গে দাম্পত্য শুরু করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে থাকতে হবে অনিশ্চিত। বাধা আসবে পারিবারিকভাবে।

কন্যা : এ জাতকের আদর্শ বন্ধু ও জীবনসঙ্গী হতে পারে কর্কট জাতক থেকে। এছাড়া মকরের সঙ্গেও সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এ জাতকের সবচেয়ে বড় শত্রু হবে সিংহ জাতক বা জাতিকা থেকে। কর্কট জাতকের সঙ্গে ভালোবাসার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে সিংহ জাতক/জাতিকা।

তুলা : এ জাতকের জন্য ভালো বন্ধু হতে পারে মিথুন জাতিকার কেউ। এছাড়া নিজ রাশির সঙ্গেও ভালো বনিবনা হতে পারে। তবে বৃশ্চিকের সঙ্গে ভালোবাসর সম্পর্ক গড়া ঠিক হবে না। কারণ তুলা ও বৃশ্চিকের সমন্বয়ের ভালোবাসার ঘর হবে ক্ষণস্থায়ী। মুখোমুখি হতে হবে অনেক সমস্যার।

বৃশ্চিক : এ জাতকের সঙ্গে ধনু, মকর ও মীন জাতকের সম্পর্ক হতে পারে। নিজ রাশির জাতক-জাতিকার সঙ্গে সম্পর্ক হলে তা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। বিয়ের ক্ষেত্রে কর্কট জাতক/জাতিকাকে এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ কর্কট ও বৃশ্চিকের সমন্বয়ে দাম্পত্য বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বিশেষ করে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকবে।

ধনু : এ জাতক বা জাতিকার সঙ্গে মেষ ও মকরের ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ধনু জাতক বা জাতিকাকে এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি বৃশ্চিক, মকর ও মীন রাশির কাউকে প্রধান্য দেওয়া যেতে পারে। এ জাতকের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারে মেষ রাশির জাতকের সঙ্গে। মেষ ও ধনুর সমন্বয়ে ভালোবাসার সম্পর্ক এগিয়ে যায় অনেকদূর।

মকর : এ জাতকের সঙ্গে নিজ জাতকের বন্ধুত্ব স্থায়ী হয় না। কন্যা, ধনু ও মীন জাতকের মধ্যে থেকে বন্ধু খুঁজে নেওয়া ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তুলা রাশির সঙ্গেও সম্পর্ক করা যেতে পারে। কারণ তুলা ও মকরের সমন্বয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার বৃহস্পতি থাকে তুঙ্গে। এমনকি কুম্ভ রাশির সঙ্গে সম্পর্ক গড়া যেতে পারে।

কুম্ভ : এ জাতকের জন্য সবচেয়ে ভালো বন্ধু পাওয়া যাবে মকর রাশির জাতক/জাতিকা থেকে। কুম্ভ ও মকরের সমন্বয়ে দাম্পত্য এগিয়ে যায় অনেকদূর। পাড়ি দিতে পারে অনেক বাধা-বিপত্তি। এদের বৃহস্পতি থাকে তুঙ্গে। প্রেম করতে পারে চুটিয়ে। মাঝে মাঝে মিথুন জাতক/জাতিকার জন্য জীবন হতে পারে বিষাদময়।

মীন : এ জাতকের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারে বৃশ্চিক রাশির। মীন ও বৃশ্চিকের সমন্বয়ে শনির দশা কেটে যেতে পারে। এগিয়ে যাওয়া যায় সমৃদ্ধির সঙ্গে। পাশাপাশি মকরের সঙ্গে সম্পর্ক করা যেতে পারে। নিজ রাশির কারও সঙ্গেও সুসম্পর্ক হতে পারে।

শামছুল হক রাসেল

Tuesday, December 21, 2010

মিশরীয় রাশিচক্র

আমরা জানি, রাশিচক্র প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা পায় প্রাচীন গ্রিসে। কিন্তু প্রমাণ মিলেছে তারও প্রায় ১শ বছর আগে মিশরীরা রাশিচক্র বিষয়ে সচেতন ছিল। বিশেষ করে মিশরের রাজারা (ফারাও) রাশিচক্রের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে জানতে খুবই উৎসাহী ছিল। তারাও মনে করতো নক্ষত্রের অবস্থান ও ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে একজন মানুষের জীবন। তবে মিশরীয়দের রাশিচক্র গ্রিকদের চেয়ে ব্যতিক্রম। রাশিগুলোর নাম ও রূপের ছিল ভিন্নতা। কিন্তু রাশিরসমূহের নক্ষত্র-মানচিত্র ছিল প্রায় অভিন্ন। মিশরীয় রাশিচক্রেও ১২টি রাশি রয়েছে। তবে মিশরীয়দের কাছে এক একটি রাশি এক একজন দেব-দেবী বলে স্বীকৃত ছিল। সেই ১২টি রাশির সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো।

থাত (২৯ আগস্ট-২৭ সেপ্টেম্বর)
থাত জ্ঞান অর্জনের দেবতা। যারা থাত রাশির জাতক তারা জটিল সমস্যা সমাধানে এবং ঘটনাকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। ভালো কিছু পেতে তারা সবকিছু করতে প্রস্তুত। অসাবধানতা, অধৈর্য ও কঠোরতা এ জাতকদের দুর্বল দিক। এরা সাধারণত সাংবাদিক, অভিনেতা, আইনজীবী ও শিক্ষতা পেশাকে বেছে নেয়।


হোরাস (২৮ সেপ্টেম্বর-২৭ অক্টোবর)
উজ্জ্বল সূর্যের দেবতা হোরাস। এই রাশির জাতকরা সাহসের সাথে বিপদের মোকাবেলা এবং আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম। এরা আশাবাদী এবং সুন্দর জীবন যাপনের কৌশল তাদের আয়ত্তে। কল্পনাপ্রবণতা ও অতিসাহস তাদের দুর্বল দিক। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ হিসাবে এরা বেশি উপযুক্ত।


ওয়াজ্জেত (২৮ অক্টোবর-২৬ নভেম্বর)
রাজগোখরা ওয়াজ্জেত দেবীর প্রতীক। তিনি জ্ঞানের দেবী। এই রাশির জাতকরা যুক্তিবাদী, সতর্ক, বিবেকবান, পরোপকারী, উচ্চাকাঙ্খী ও নিজস্বমতালম্বী হয়ে থাকে। পারিবারিক মূল্যবোধকে এরা খুবই গুরুত্ব দেয়। নিরাশাবাদ, অহংকার, অসামাজিক মনোভাব এবং কৃপণতা এই জাতকদের দুর্বল দিক। এরা সাধারণত ঠিকাদার, পরিচালক, স্থপতি, প্রকৌশলী ও সম্পাদক হন।


সিখমিত (২৭ নভেম্বর-২৬ ডিসেম্বর)
যুদ্ধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেবতা সিখমিত। এই রাশির জাতকরা প্রখর বুদ্ধির অধিকারী, আশাবাদী ও কল্পনাপ্রবণ হয়ে থাকে। সর্বক্ষেত্রে এরা বিবেচক ও তার্কিক এবং যে কোনো অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, বিশেষ করে কঠিন সময়েও নিজেকে এরা মানিয়ে নিতে পারে। অধৈর্য ও ঝগড়াটে স্বভাব এই জাতকদের দুর্বল দিক। পেশা হিসাবে এরা সাধারণত শিক্ষকতা, লেখালেখি ও ধারাভাষ্যকে বেছে নেয়। বিশ্বের নামকরা খেলোয়াড়রা এই রাশির জাতক।


স্ফিন্ক্স (২৭ ডিসেম্বর-২৫ জানুয়ারি)
এক অদ্ভূত প্রাণী, যারা মাথাটা মানুষের কিন্তু শরীর সিংহ’র। ধন-সম্পদের প্রহরী হিসাবে এই স্ফিন্ক্সকে কল্পনা করা হতো, যে যেকোনো সময় যেকোনো প্রাণীর রূপ ধারণ করতে সক্ষম। এই রাশির জাতকরা নিজেদের আচার-আচরণের পরিবর্তন করে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। বিশ্লেষণী, অনুসন্ধানী ও নিয়মানুবর্তী মানসিকতা এই জাতকদের বিশেষ গুণ। এরা অনেক সময় অনেকের ওপর অবিচার করে থাকে। অহংকারও তাদের অন্যতম দুর্বল দিক। পেশাগত দিক থেকে এরা নিজেই নিজের মালিক হতে পছন্দ করে।

শু (২৬ জানুয়ারি-২৪ ফেব্রুয়ারি)
আলো ও বাতাসের দেবতা শু। এই রাশির জাতকরা অসাধারণ সৃজনশীল মেধার অধিকারী হয়। তারা একবার তাদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পেলে সফলতা নিশ্চিত। এরা ব্যর্থতাকে ভয় পায় না। বিবেকবোধ ও নীতিচর্চা এদের অন্যতম বড় গুণ। এরা প্রায়ই দ্বিধায় পড়ে এবং অনেক সময় বড় বড় সুযোগ হাতছাড়া করে। এরা সমাজকর্মী, পরামর্শক, কৃষক, জীববৈচিত্র্য রক্ষাকারী হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলে।


ইসিস (২৫ ফেব্রুয়ারি-২৬ মার্চ)
ইসিস অনুশাসনের দেবতা। এই রাশির জাতকরা সম্মানিত, আদর্শবাদী ও স্পষ্টবাদী। এরা যুক্তিবাদী বলে একটি বিষয়কে বিভিন্ন দিক থেকে দেখে বিশ্লেষণ করে। সবার সাথে এদের মসৃণ সম্পর্ক। এরা উদ্যোমী ও আত্মনির্ভরশীল। খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরা বড় ধরণের সমস্যাকে মাঝপথেই রেখে বিদায় নেয়। এটি তাদের চরিত্রের খারাপ দিক। ফটোগ্রাফি, বাণিজ্যিক কলা ও বিজ্ঞাপন ব্যবসায় এদের প্রিয় পেশা।


ওসিরিস (২৭ মার্চ-২৫ এপ্রিল)
নরকের দেবতা ওসিরিস। এই রাশির জাতকরা আবেগের দিক থেকে অস্পষ্ট এবং অনেক সময় ভুল বুঝার সম্ভাবনা থাকে। এরা কর্মক্ষম, বুদ্ধিমান, উদ্যোগী এবং সুযোগকে কাজে লাগাতে পটু। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এদের চরিত্রের সবচেয়ে খারাপ দিক। বিক্রয়কর্ম ও শিক্ষকতাকে এরা পেশা হিসাবে বেছে নেয়।

আমুন (২৬ এপ্রিল-২৫ মে)

প্রাচীন মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ী আমুন হলো পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। এই রাশির জাতকরা বলবান, দৃঢ় এবং সমস্যা সমাধানে পারদর্শী হয়। অটুট ইচ্ছাশক্তি, বিপুল সাহস এবং আত্মবিশ্বাস এই জাতকদের পুঁজি। নেতা হিসাবে এরা সফলতার পরিচয় দিতে পারে। একগুঁয়েমি ও অসহিষ্ণুতা এদের চরিত্রের খারপ দিক। পেশা হিসাবে এরা আর্থিক কর্মকা- বেছে নেয়।

হাতোর (২৬ মে-২৪ জুন)

হাতোর আকাশ ও জমিনের দেবী। এই দেবী খুবই আবেগপ্রবণ এবং ভালোবাসার সাথে প্রবল ভাবে সম্পর্কযুক্ত। এই রাশির জাতকরা জীবনকে উপভোগ করতে এবং সেরাটাকে অর্জনে যথেষ্ট কৌশলী ও সফল। এরা খুবই রোমান্টিক ও উল্লসী হয়ে থাকে। এরা বদমেজাজি এবং সহজেই ভালোবাসা, ঘৃণা কিংবা ঈর্ষায় নিমজ্জিত হয়। যোগাযোগ ও প্রদর্শন কলা, চিত্রকলা, সমাজকর্ম ইত্যাদি পেশার দিকে তারা বেশি ঝুঁকে।

ফিনিক্স (২৫ জুন-২৪ জুলাই)

 ফিনিক্স জীবন ও পুনর্জীবনের পাখি। এই রাশির জাতকরা সম্ভাবনা তৈরি করতে পারদর্শী। নমনীয়তা, আশাবাদ এবং অন্যের মধ্যে আশা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা এই জাতকদের বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এরা জীবন যাপনে অসামাজিক ও একগুঁয়ে এবং বাস্তবতাবর্জিত। এরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে, কারো কর্মচারী হয়ে কাজ করতে নারাজ এবং এদের অনেকেই বড় মাপের প্রকৌশলী হয়ে ওঠে।


আনুবিস (২৫ জুলাই-২৮ আগস্ট)
নরকের প্রহরী আনুবিস। প্রাচীন মিশরীয় রাশিচক্রের সবগুলো চরিত্রের মধ্যে এই চরিত্রটিই সবচেয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং অবস্থা ও ঘটনাকে নিজের অধীনে রাখতে পারে বলে সম্মানিত হয়। সমবেদনা, দানশীলতা ও স্নেহশীলতা তাদের বিশেষ গুণ। নিজের যুক্তিকে প্রমাণ করতে তারা সক্ষম। বিজ্ঞান ও ফ্যাশন ব্যবসার প্রতি তারা উৎসাহী।
লিখেছেন : সুদীপ্ত সালাম   

Sunday, November 28, 2010

শুভ সংখ্যা

ভাগ্যচক্র বা রাশিচক্রের অন্যতম একটি দিক হলো শুভ সংখ্যা/শুভ ভাগ্য সংখ্যা। যাকে ইংরেজিতে বলে Lucï Number। যারা রাশিফলে বিশ্বাস করেন তাদের কাছে এ সংখ্যাটির মূল্য অনেক। যে কোনো কাজে তারা সংখ্যাটি ব্যবহার করতে প্রস্তুতি থাকেন। অনেকে নিজেদের শুভ সংখ্যা সম্পর্কে অবগত নন। তাই Lucï Number কিভাবে বের করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। শুভ সংখ্যা দু'ভাবে বের করা যায়-

১) নিজের জন্মদিন বা Date of Birth দিয়ে। ২) নিজের নামসংখ্যা বা Name Nubmber দিয়ে।

ধরুন, অনেকেই আছেন যাদের জন্মদিন মনে নেই বা সঠিক জানা নেই, তাদের ক্ষেত্রে Lucï Number বের করতে গেলে তাদের নামসংখ্যা বা Name Number ব্যবহার করতে হবে।

- নিজের জন্মদিন বা Date of Birth দিয়ে Lucï Number বের করার নিয়ম_

ধ) যারা যে কোনো বছরের যে কোনো মাসের ১, ১০, ১৯ বা ২৮ তারিখে জন্মেছেন তাদের ক্ষেত্রে Lucï Number হচ্ছে ১, ২, ৪ এবং ৭.

ন) যারা যে কোনা বছরের যে কোনো মাসের ২, ১১, ২০ বা ২৯ তারিখে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে Lucï Number হলো ২, ১, ৪ বা ৭.

প) যারা যে কোনা বছরের যে কেনো মাসের ৩, ১২, ২১ বা ৩০ তারিখে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে শুভ সংখ্যা হলো ৩, ৬ বা ৯।

ফ) যারা যে কোনা বছরের যে কোনো মাসের ৪, ১৩, ২২ বা ৩১ তারিখে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে Lucï Number হলো ৪, ১, ২ এবং ৭.

ব) যারা যে কোনা বছরের যে কোনো মাসের ৫, ১৪ বা ২৩ তারিখে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে Lucï Numberহল ৫.

ভ) যারা যে কোনা বছরের, যে কোনো মাসের ৬, ১৫ বা ২৪ তারিখে জন্মেছেন তাদের ক্ষেত্রে Lucï Number হলো ৬, ৩ বা ৯

ম) যারা যে কোনা বছরের যে কোনো মাসের ৭, ১৬ বা ২৫ তারিখ জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে শুভ সংখ্যা হলো ৭, ১, ২ বা ৪

য) যারা যে কোনা বছরের যে কোনো মাসের ৮, ১৭ বা ২৬ তারিখে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে শুভ সংখ্যা হলো ১, ২, ৪ এবং ৭ (ব্যতিক্রম হিসেবে অনেক সময় ৪)।

র) যারা যে কোনা বছরের, যে কোনো তারিখে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে Lucï Number হলো ৯, ৬ বা ৩.

- যাদের জন্ম তারিখ মনে নেই বা সঠিক জানা নেই, তাদের শুভসংখ্যা ( Lucï Number) বের করার নিয়ম_

এ পদ্ধতিতে সঠিক জন্মতারিখ জানা না থাকলেও, আমরা নিম্নলিখিত ছক মনে রেখে, নামের মাধ্যমে শুভসংখ্যা বের করতে পারি_ অ-১, ই-২, ঈ-৩, উ-৪, ঊ-৫, ট-৬, ঙ-৭, ও-১, ক-২, -ে৩, গ-৪, ঐ-৫, ঠ-৬, ত-৭, ঔ-১, জ-২, খ-৩, ঞ-৪, ঘ-৫, ড-৬, ছ-১, ঝ-৩, ঢ-৩, ণ-১.

ধরুন কারো নাম RASHIDA SHARMIN.

তাহলে RASHIDA = ২+১+৩+৫+১+৪+১+ = ১৭.

SHARMIN = ৩+৫+১+২+৪+১+৫ = ২১

অর্থাৎ-নাম সংখ্যা ( ঘধসব ঘড়)-

১৭+২১ = ৩৮ = ৩+৮ = ১১ এবার এই সংখ্যাকে যদি জন্ম তারিখ ধরি তাহলে শুভ সংখ্যা হবে ২, ১, ৪ বা ৭.

এভাবে যাদের জন্মতারিখ মনে নেই, তারা নিজেদের শুভ সংখ্যা এভাবে বের করতে পারেন। আর যাদের জন্ম তারিখ জানা আছে, তারা জন্ম তারিখ অনুসারে শুভ সংখ্যা বাছাই করবেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে কারো কারো শুভ সংখ্যা ব্যতিক্রম হতে পারে।

শামছুল হক রাসেল

Monday, January 4, 2010

মেষ(Aries)


এই তারকাম-লীকে ভেড়া হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে। গ্রিকপুরাণ অনুসারে, রাজপুত্র ফ্রিসোস ও তার বোনকে যখন তাদের সৎমা ইনো হত্যা করার পরিকল্পনা করে তখন মেঘের দেবী নেফেলের নির্দেশে একটি সোনালী বর্ণের ভেড়া তাদের উদ্ধার করে কোলকাইস দেশে পৌছে দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজপুত্র ঈশ্বরকে খুশি করতে তার প্রিয় ভেড়াটিকে বলি দিয়ে তার চামরা মন্দিরে টাঙিয়ে দেয়। রাশি চক্রের প্রথম রাশি। আগে মনে করা হতো সূর্য মেষ রাশির বলয়ে থেকে বিষুববৃত্ত অতিক্রম করেছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রমাণিত হয়েছে সূর্য মীন রাশির বলয়ে ছিল। কিন্তু এখনও মেষ রাশিকে প্রথম রাশি বলা হয়।

বৃষ(Taurus)


এই তারকাম-লীর বিন্দুগুলোকে যোগ করলে অনেকটা ষাঁড়ের মতো দেখায়। তাই বৃষম-লীকে ষাঁড় হিসাবে ভাবা হয়। এই ষাঁড়টি আর কেউ নন, স্বয়ং দেবতাদের দেবতা জিউস। তিনি রাজকুমারী ইউরোপাকে হরণ করতে একবার একটি সাদা ষাঁড়ের রূপ ধারন করেছিলেন।
বৃষ রাশির অবস্থান কালপুরুষের উত্তর-পশ্চিমে। রাশির প্রধান তারা রোহিণী। ২০ অক্টোবর-৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই তারাকান্ডলী থেকে উল্কাপাত হয়।

মিথুন(Gemini)


মিথুন অর্থ যমক। জিউসের দুই যমজ ছেলে, ক্যাস্টোর ও পোলাক্স। গ্রিকপুরাণ বলে, এই দুই ভাই গৃহস্থের পশু চুরি করতে পারদর্শী। আরেক পুরাণকথার সাথে এই কথার মিল আছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছায়াপথ হলো দুগ্ধ গরুরপাল। জ্যোতির্মন্ডলের দিকে তাকালে অনেক সময় দেখা যায় মিথুন রাশির তারকাম-লীর এক অংশ ছায়াপথের মধ্যে আর বাকি অংশ ছায়াপথের বাইরে অবস্থান করছে। এ থেকে গল্প হলো, এক ভাই গরু চুরি করছে, আরেক জন পাহারা দিচ্ছে।
শীতকালীন এই নক্ষত্রপুঞ্জে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার বেশ কিছু তারা আছে। সূর্য চলার পথে এক সময় এই রাশিচক্রে অবস্থান নেয়।

কর্কট(Cancer)


এই রাশির প্রতীক কাঁকড়া। জিউসপুত্র হারকিউলিস যখন একাধিক মাথাওয়ালা দানব হাইড্রার সাথে যুদ্ধ করছিল তখন হারকিউলিসের শত্রু দেবী হেরা একটি কাঁকড়া পাঠায় হারকিউলিসকে বাধা দিতে। কাঁকড়া এসে কামড় বসায় হারকিউলিসের হাঁটুতে। যুদ্ধে বাধা পড়ায় হারকিউলিস ভীষণ বিরক্ত হয়ে কাঁকড়াটিকে পিষে মারে। কিন্তু দেবী হেরা তার প্রিয় কাঁকড়াটিকে হতাশ করেননি, সম্মানিত করে জ্যোতির্মন্ডলে স্থান দেন। কর্কট তারকামন্ডলী দেখতে কিছুটা কাঁকড়া আকৃতির।
এই শীতকালীন রাশিরচক্রের তারকামন্ডলী সবচেয়ে অস্পষ্ট।

সিংহ(Leo)


গ্রিসের নিমিয়া নগর দখল করে রেখেছিল একটি দানব সিংহ। পুরাণশাস্ত্রে এটি নিমিয়ান সিংহ নামে পরিচিত। সিংহটি নগরে আতঙ্ক তৈরি করে রেখেছিল। বীর হারকিউলিস ভ্রমণ করতে করতে নিমিয়ায় পৌছায়। তখন তার সংঘর্ষ হয় সিংহটির সাথে। হারকিউলিস সিংহটিকে হত্যা করে। পরবর্তী সময়ে সেই দানব-সিংহটিও আকাশে স্থান পায়।
সিংহ রাশির তারকামন্ডলীর বুকে মঘা নামের একটি লালচে উজ্জ্বল তারার অবস্থান। বসন্তকালে ও গ্রীষ্মকালের প্রথম দিকে সিংহ আকাশে স্পষ্ট হয়।

কন্যা(Virgo)


গ্রিক ও রোমান পুরাণ মতে, দেবী দিমিটার জিউসের ঔরসে কুমারী মা হিসেবে জন্ম দেন পারসেফোনিকে। শষ্য ও উর্বরতার দেবী কুমারী মা ডিমিটারের অবয়বই দেখা যায় কন্যাম-লীতে। অন্য এক পুরাণ অনুসারে, কন্যা রাশি কুমারী দেবী ইউসতিশিয়ার প্রতীক। তুলা রাশির মতো এই দেবীর হাতেও দাঁড়িপাল্লা রয়েছে।
চিত্রা, নাভিতারা, দ্রাক্ষাহরণী এই তারকামন্ডলীর উল্লেখযোগ্য তারা।

তুলা(Libra)


গ্রিকদের সুবিচারের দেবী জিউসকন্যা অ্যাস্ট্রিয়া। তার এক হাতে একটি দাঁড়ি-পাল্লা নিরপেক্ষতার প্রতীক হিসাবে শোভা পায়। এই দেবীকেই গ্রিকরা তুলা রাশি চক্রের তারকামন্ডলী হিসেবে জ্যোতির্মন্ডলে কল্পনা করতো।
জ্যোতির্মন্ডলের সবচেয়ে প্রাচীন নক্ষত্র স্তবক শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত এই রাশির চক্রের তারকামন্ডলী। এর আবরণী জোড়া এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বস্তু।

বৃশ্চিক(Scorpio)


সমুদ্ররাজ পসিডনের সুদর্শন পুত্র অরিয়ন, যে মেয়ে তাকে দেখে তার প্রেমে পড়ে যায়। বাদ যায় না স্বয়ং প্রেমের দেবী অরোরাও। মানুষের গর্ব দেবতারা সহ্য করবেন কেন? অরিয়ন ছিল দাম্ভিক প্রকৃতির ছেলে। জিউসপুত্র দেবতা এপোলোর বোন আর্টেমিসও অরিয়নের প্রেমে পড়ে। এপোলো তা মেনে নিতে পারে না। অরিয়নের অহংকার চূর্ণ করতে এপোলো একটি বৃশ্চিক বা বিছা পাঠায়। যতক্ষণ না অরিয়নের মৃত্যু হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দংশন করতে বৃশ্চিককে আদেশ করা হয়। বৃশ্চিকের হাত থেকে রক্ষা পেতে অরিয়ন সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়। তবুও বাঁচা যায়নি, আর্টেমিসেরই হাতে অরিয়ন ভুল করে নিহত হয়। আজ্ঞাবহ বৃশ্চিকটি আকাশে স্থান পায়।
বৃশ্চিক রাশি চক্রের তারকাম-লীর উল্লেখযোগ্য তারা অরিয়ন, বাংলায় যা কালপুরুষ নামে পরিচিত। জুনে দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বৃশ্চিকম-লীর তারাগুলোকে দেখা যায়, জ্যেষ্ঠ ও শুক তারা অন্যতম।

ধনু(Sagittarius)


ফিলিরা ও শনির পুত্র কাইরন। চিরনের হিংসুটে স্ত্রী রিয়া । কাইরন তার এই হিংসুটে বউয়ের কাছ থেকে নিষ্কৃতি পেতে একদিন মন্ত্রবলে এক অদ্ভূত রূপ ধারন করে। অর্ধেক অশ্ব অর্ধেক মানুষ। কমরের উপরি ভাগ হয় মানুষের মতো, তার নিচের অংশ ঘোড়ার মতো। কাইরনের ঘোরার মতো চার পা আছে, হাতে আছে তীর-ধুনক। ধনু রাশির তারকাম-লীকে দেখে এই গাল-গপ্পই বানিয়ে ছিল পুরাকালের গ্রিকরা।
বৃশ্চিক রাশির পূর্ব দিকে এর অবস্থান। ধনুম-লীতে আমাদের পৃথিবীর ছায়াপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবস্থিত।